দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

এবারের নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণা করা হবে শুক্রবার। এরই মধ্যে সম্ভাব্য বিজয়ী নিয়ে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের আলোচনা। তবে কারা মনোনয়ন পেয়েছেন, সেই পূর্ণ তালিকা এখনো গোপন রাখা হয়েছে। নোবেল কমিটির নিয়ম অনুযায়ী, মনোনয়নের তালিকা ৫০ বছর পর্যন্ত প্রকাশ করা হয় না।
এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মোট ২৮৭ জন ও প্রতিষ্ঠান মনোনয়ন পেয়েছে। এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তবে মনোনয়নকারীরা চাইলে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীর নাম প্রকাশ করতে পারেন।
এবারের সম্ভাব্য বিজয়ীদের আলোচনায় রয়েছেন পোপ লিও, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। সুদানে স্থানীয়ভাবে সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনাকারী ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’ এবং ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর নামও আলোচনায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনকেও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কম্বোডিয়া, ইসরায়েল ও পাকিস্তানের নেতারা দাবি করেছেন, তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন দিয়েছেন। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প মনোনয়ন পেয়ে থাকলেও এবার তার পুরস্কার পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
নোবেল শান্তি পুরস্কারের বিজয়ী নির্বাচন করে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। নরওয়ের পার্লামেন্ট পাঁচ সদস্যের এই কমিটি নিয়োগ দেয়। সদস্যদের মধ্যে অনেকেই অবসরপ্রাপ্ত রাজনীতিক হলেও সবাই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। বর্তমানে কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন নরওয়েজিয়ান পেন ইন্টারন্যাশনালের প্রধান। কমিটিতে একজন শিক্ষাবিদও রয়েছেন। সদস্য নির্বাচনে নরওয়ের পার্লামেন্টের রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্যও বিবেচনায় রাখা হয়।
পুরস্কারপ্রার্থীকে আলফ্রেড নোবেলের ১৮৯৫ সালের উইলের শর্ত পূরণ করতে হয়। সেখানে বলা হয়েছে, পুরস্কার দেওয়া হবে এমন ব্যক্তিকে, যিনি জাতিগুলোর মধ্যে ভ্রাতৃত্ব, স্থায়ী সেনাবাহিনী বিলুপ্ত বা কমানো এবং শান্তি সম্মেলন প্রতিষ্ঠা বা প্রসারে সবচেয়ে বেশি বা সবচেয়ে ভালো কাজ করেছেন।
তবে বর্তমান বিশ্বের পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেয় নোবেল কমিটি। কমিটির সচিব ক্রিস্টিয়ান বার্গ হারপভিকেন মনোনয়ন নিয়ে কাজ প্রস্তুত করেন এবং আলোচনায় অংশ নিলেও ভোট দেন না। বিশ্ব পরিস্থিতি, বৈশ্বিক প্রবণতা, উদ্বেগ এবং শান্তি প্রক্রিয়া থেকে আন্তর্জাতিক চুক্তি পর্যন্ত বিভিন্ন সম্ভাবনাময় উদ্যোগও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
সরকার ও পার্লামেন্টের সদস্য, রাষ্ট্রপ্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ইতিহাস, সমাজবিজ্ঞান, আইন ও দর্শনের অধ্যাপক এবং সাবেক নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ীরাসহ বিভিন্ন ব্যক্তি মনোনয়ন দিতে পারেন। চলতি বছরের মনোনয়ন দেওয়ার সময়সীমা শেষ হয়েছে ৩১ জানুয়ারি। তবে কমিটির সদস্যরা ফেব্রুয়ারির প্রথম বৈঠক পর্যন্ত মনোনয়ন দিতে পারেন।
সব মনোনয়ন নিয়ে আলোচনা শেষে কমিটি সম্ভাব্য প্রার্থীদের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে। এরপর বিশেষজ্ঞ ও উপদেষ্টাদের মাধ্যমে প্রার্থীদের মূল্যায়ন করা হয়। কমিটি সাধারণত মাসে একবার বৈঠক করে এবং আগস্ট-সেপ্টেম্বরের দিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে এগোয়। সম্ভব হলে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তা না হলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে বিজয়ী নির্বাচন করা হয়।
১৯৯৪ সালে ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে ইসরায়েলের শিমন পেরেজ ও আইজ্যাক রবিনকে যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার প্রতিবাদে কমিটির এক সদস্য পদত্যাগ করেছিলেন। এরপর এমন ঘটনা আর ঘটেনি।
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ীকে দেওয়া হয় একটি স্বর্ণপদক, সনদ এবং ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা, যা প্রায় ১২ লাখ মার্কিন ডলারের সমান। এর পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক স্বীকৃতিও পান বিজয়ী।
শুক্রবার নরওয়ের রাজধানী অসলোতে নরওয়েজিয়ান নোবেল ইনস্টিটিউটে পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করা হবে। আর আগামী ১০ ডিসেম্বর আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে অসলো সিটি হলে অনুষ্ঠিত হবে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান।
/অ